ভিআর-এ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে যাক পাবনার সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংগ্রহশালা

১৮ জুন, ২০২৩ ২২:৫১  

ষাটের দশকে বাংলা সিনেমা জগতের রুপালি পর্দার সারা জাগানো অভিনেত্রী সুচিত্রা সেন। যার অনবদ্য অভিনয় ও রুপে মুগ্ধ হয়েছে লক্ষ কোটি দর্শক। তিনি ১৯৩১ সালের ৬ এপ্রিল এই বাড়িতেই তার জন্ম ও শৈশব কেটেছে। বাবা করুণাময় দাশগুপ্ত ছিলেন স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। বাবা-মায়ের পঞ্চম সন্তান ছিলেন সুচিত্রা। আর এ কারণেই পাবনা তথা বাংলাদেশিদের আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন তিনি। তার স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে বর্তমানে মহানায়িকার বাড়িতে গড়ে তোলা হয়েছে ‘কিংবদন্তী মহানায়িকা সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংগ্রহশালা।

 ১৯৫১ সালের দিকে তার বাবা করুণাময় দাশগুপ্ত পরিবারসহ কলকাতায় পাড়ি জমান।

সুচিত্রা সেন সম্পর্কে জানাতে ও তার স্মৃতি রক্ষার্থে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গড়ে তোলা সংগ্রহশালায় মহানায়িকার বিভিন্ন ছবি, জীবনের বিভিন্ন তথ্য সম্বলিত বিলবোর্ড, পুস্তিকা, সিনেমার পোস্টারসহ রয়েছে নানা নিদর্শন। বাড়ির আঙিনায় সম্প্রতি স্থাপন করা হয়েছে সুচিত্রার একটি ম্যুরাল। প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকতেই চোখে পড়ে সুচিত্রার বিশালাকৃতির এ প্রতিকৃতি। বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে দৃষ্টিনন্দন সব ফুলের গাছ। বাড়ি জুড়ে ছড়িয়ে আছে মহানায়িকার স্মৃতি। আর তাতে মুগ্ধ হচ্ছেন দর্শনার্থীরা। সুচিত্রার পৈত্রিক এ বাড়িটিকে পূর্ণাঙ্গ আর্কাইভে পরিণত করার দাবি পাবনাবাসীর।

রাজশাহী বিভাগের পাবনা শহরের গোপালপুর হিমসাগর এলাকার সুচিত্রা সেনের পৈতৃক বাড়িটি জেলা সংস্কৃতিপ্রেমীদের ভালোবাসার অন্যতম একটি স্থান। জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে সুচিত্রা সেনের বাড়িটিকে বেশ কয়েক বছরের প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ‘কিংবদন্তি মহানায়িকা সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংগ্রহশালা’ হিসাবে। এবার এই সংগ্রহশালাকে ভিআর-এর মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করছে পর্যন্ত পাবনা ডেভেলপমেন্ট ফোরাম।

পবনায় “সরকারি ক্রয় বিষয়ক একটা কর্মশালায় যোগ দিয়ে সম্প্রতি সেখানে মহানায়িকা সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংগ্রহশালায় গিয়ে ‘অভিভূত’ প্রকাশ করে পাবনা ডেভেলপমেন্ট ফোরাম নামে হোয়াটস্আপ প্রুপে এমন মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীন আইএমইডি এর সিপিটিউ পরিচালক মো: শামীমুল হক।

“সরকারি ক্রয় বিষয়ক একটা কর্মশালায় সম্প্রতি পাবনা এসে মহানায়িকা সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংগ্রহশালায় গিয়ে আমি অভিভূত। মনে হলো এটি আরো সমৃদ্ধ করা উচিত। এর মাধ্যমে পাবনাকে দেশে-বিদেশে তুলে ধরার এবং পর্যটক আকর্ষণ করার অনেক সুযোগ আছে।

তারা এই মন্তব্য গ্রুপের সদস্যদের মাঝে ব্যপক আগ্রহ তৈরী করেছে।

মো: শামীমুল হক আরও বলেন, সংগ্রহশালাটির ব্যাপক উন্নয়ন এবং যথাযথভাবে সংরক্ষণ করার জন্য প্রত্নতত্ব বিভাগের সহযোগিতা নেয়া যায়। একই সাথে তাড়াশ ভবন, শাহী মসজিদ, জোড়বাংলা মন্দিরসহ পাবনা জেলার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য পুরাকীর্তি স্থাপনা (historical heritage) প্রত্নতত্ব বিভাগ এর আওতায় আনার জন্য ফোরাম এর পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। আমি আশা করি এ বিষয়ে কিছুটা সহযোগিতা করতে পারবো।

মো: শামীমুল হক বলেন, তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের নজরে আনবেন যেন এই সংগ্রহশালার যথাযথ উন্নয়নের জন্য স্থায়ী ও টেকসই ব্যবস্থা নেয়া হয়। একই সাথে দেশের সংস্কৃতিপ্রেমী বিশেষ করে পাবনাবাসীদের সাথে নিয়ে পাবনা ডেভেলপমেন্ট ফোরাম একযোগে কাজ করবে।

যোগাযোগ করা হলে পাবনা ডেভেলপমেন্ট ফোরাম-এর সদস্য (শিক্ষা ও গবেষনা) ড. জহির বিশ্বাস পাবনার উন্নয়ন, বিশেষ করে মহানায়িকা সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংগ্রহশালার উন্নয়নে ফোরাম-এ রকম সময় উপযোগী ও প্রসংশনীয় প্রস্তাবকে স্বাগত জানান এবং বলেন, এর বাস্তবায়নে পাবনা জেলা আরেক ধাপ এগিয়ে যাবে। অপর সদস্য বিটাক অতিরিক্ত পরিচালক ইন্জিনিয়ার জাহাংগির আনছারী বলেন, এ প্রস্তাবনা পাবনার উন্নয়নকে কার্যকর ভাবে উৎসাহিত ও ত্বরান্বিত করবে।

প্রসঙ্গত, রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার র্পূব পর্যন্ত পাবনা ডেভেলপমেন্ট ফোরাম-এর সভাপতি ছিলেন।

২০১৭ সালের ৬ এপ্রিল সুচিত্রা সেনের জন্মদিনে এই সংগ্রহশালা উদ্বোধন কালে পাবনার জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন বলেন, ‘বাড়িটি সুচিত্রা সেনের স্মৃতির সঙ্গে জড়িত। আমরা সেইভাবেই বাড়িটি সাজিয়েছি। এর মাধ্যমে মহানায়িকাকে স্মরণ করার পাশাপাশি আমাদের ঐতিহ্যকেও তুলে ধরা হবে। আর এভাবেই আমরা এগিয়ে যাবো।’

এ সময় সংগ্রহশালা ঘিরে স্থানীয়দের কোনও পরিকল্পনা থাকলে তা জেলা প্রশাসনকে অবহিত করলে আলোচনা সাপেক্ষে তারও বাস্তবায়ন করা যেতে পারে বলে জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ‘যদি স্থানীয়দের কোনও পরিকল্পনা থাকে তা যেন আমাকে জানায়। তাহলে আমরাও সেটা সফল করার জন্য সহযোগিতা করবো।’

সংগ্রহশালা দেখভালের দায়িত্বে থাকা কর্মচারী নুরুজ্জামান বলেন, ‘কেয়ারটেকার হিসাবে আছি ২০১৭ সালের ১৭ এপ্রিল থেকে। সোমবার সপ্তাহিক ছুটি ছাড়া প্রতিদিন ১০টা থেকে ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে সংগ্রহশালা। এখানে প্রতিদিন ২০-২৫ জনের বেশি দর্শনার্থী আসেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের দর্শনার্থী ছাড়াও কলকাতা থেকেও প্রায়ই দর্শনার্থীরা আসেন। তারা সংগ্রহশালাটি দেখে মুগ্ধ হন, আনন্দিত হন।’

সুচিত্রা সেনের প্রথম ছবি ‘শেষ কোথায়’। ১৯৫২ সালের শেষের দিকে এই ছবিটিতে অভিনয় করলেও ছবিটি দর্শকের সামনে আসেনি।  পরবর্তীতে বাংলা মহানায়ক উত্তম কুমারের সাথে জুটি বাঁধেন। তাঁদের প্রথম ছবি ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ বক্সঅফিসে তুমুল জনপ্রিয়তা লাভ করে। এরপরে সুচিত্রা-উত্তম জুটি একের পর এক ব্যবসাসফল ছবি বাংলা দর্শকদের উপহার দেয়। উত্তম-সুচিত্রার এই অবিচ্ছেদ্য জুটি পরবর্তী ২০ বছরে বাংলা চলচিত্তে সবচেয়ে সফল  জুটি হিসাবে পরিচিতি লাভ করে। দীর্ঘদিন তিনি লোকচক্ষুর আঁড়ালে থেকে ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি ৮৩ বছর বয়সে মারা যান।